জন নামে এক কাঠুরে এক সংস্থায় চাকরি করত। কিন্তু দীর্ঘ পাঁচ বছর চাকরি করার পরেও তার বেতন বাড়ে নি। এ কারণে সে খুব ক্ষুব্ধ থাকত।
কিছুদিন পর ওই সংস্থায় বিল নামের একজন কাঠুরিয়াকে চাকরি দেওয়া হয়। চাকরির এক বছরের মাথায় বিলের বেতন বাড়িয়ে দেওয়া হয়।
বিলের বেতন বাড়ানোর খবর জন জানতে পারে। সে ওই কোম্পানির মালিকের কাছে গিয়ে জিজ্ঞেস করে, সে পাঁচ বছর চাকরি করেও যেখানে তার বেতন বাড়েনি সেখানে একজন নতুন লোকের বেতন কেন বাড়ানো হলো?
মালিক তখন বলল, ‘তুমি পাঁচ বছর আগে যে পরিমাণ কাঠ কাটতে আজও তাই কাটছ। তুমি যদি তোমার কাঠ কাটার ক্ষমতা বাড়াও তাহলে আমরাও তোমার বেতন বাড়িয়ে দেব।’
জন ফিরে গিয়ে কাজ আরম্ভ করল। কিন্তু সর্বশক্তি দিয়ে কাজ করেও সে আগের থেকে বেশি কাঠ কাটতে পারল না। এভাবে কয়েকদিন চেষ্টা করেও যখন কোনো ফল পেল না, তখন সে আবার মালিকের কাছে গিয়ে সমস্যার কথা জানাল।
মালিক তাকে পরামর্শ দিল বিলের সঙ্গে কথা বলতে।
জন তখন বিলের কাছে গিয়ে বলল, তুমি এত কাঠ কাটো কিভাবে? তোমার কাঠ কাটার কৌশল কি?
বিল জবাব দিল, ‘প্রত্যেকটি গাছ কাটার পর আমি দুমিনিটের বিরতি নিয়ে আমার কুড়ালটিতে শান দিই। তুমি তোমার কুড়ালে শেষবার কখন শান দিয়েছ?’
এই প্রশ্নটিই জনের চোখ খুলে দিল এবং সে তার সব প্রশ্নের জবাব পেয়ে গেল।
উপরের গল্পটি লেখক শিবখেরার। এই গল্প আমাদের অনেক কিছু শিক্ষা দেয়। আমাদের হতাশাগ্রস্ত জং ধরা জীবনটাকেও শান দিয়ে ধারালো করতে হবে। কার জীবনের কোথায় শান দিতে হবে তা যার যার সমস্যা অনুযায়ী নির্ধারণ করতে হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *